চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) পণ্য ওঠানামার গতি বাড়াতে চারটি আধুনিক কি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করেছে সৌদি আরবভিত্তিক অপারেটর রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)। চীনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রির কাছ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলারে কেনা এ ক্রেনগুলো এরই মধ্যে টার্মিনালে পৌঁছেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এখন জেটিতে এগুলো স্থাপন ও কমিশনিং করবে। পরে জুলাইয়ের মাঝামাঝি এ ক্রেন দিয়ে পুরোদমে পণ্য ওঠানামার কাজ শুরু করা যাবে। এ উপলক্ষে গতকাল চট্টগ্রামে আরএসজিটির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
জানা যায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান দুটি টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) মিলিয়ে মোট ১৮টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন সচল রয়েছে। এর মধ্যে এনসিটিতে ১৪টি এবং সিসিটিতে চারটি ক্রেন ব্যবহৃত হচ্ছে।
পিসিটির ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে স্যানি মেরিন থেকে কাস্টমাইজড বা বিশেষভাবে তৈরি করিয়ে নেয়া হয়েছে এ ক্রেনগুলো। পিসিটির তিনটি জেটির মধ্যে একটিতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ওঠানামার উচ্চতাসংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় সেখানে কোনো গ্যান্ট্রি ক্রেন বসানো সম্ভব নয়। বাকি দুটি জেটিতেও উচ্চতার সীমাবদ্ধতা থাকায় ক্রেনগুলোর উচ্চতা নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছে ৪২ ফুট।
নতুন এ যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে আরএসজিটি তাদের প্রথম দুই বছরের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত শর্ত পূরণ করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চারটি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন পুরোদমে চালু হলে পিসিটির পণ্য ওঠানামার সক্ষমতা ও সার্বিক কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এর আগে গত বছর ২৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১৪টি রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহ করেছিল আরএসজিটি।
উল্লেখ্য, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউ (২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারের একক)। ২০২৫ সালে এ টার্মিনালে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬৪ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যে বছর টার্মিনালে জাহাজ ভিড়েছিল ৭৮টি।